বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল পুলিশ সদস্য

বাংলার আলো ডেস্ক
  • হালনাগাদ সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৫৮ বার

ব্র্যাক কর্মকর্তা স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে পুলিশ কনস্টেবল স্বামী শোভন আহম্মেদ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কনস্টেবল শোভন আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাঘারচর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদের বাজারীপাড়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোনা সদরের সাতপাই এলাকার নবাব আলীর মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার (৪০)-এর সঙ্গে ময়মনসিংহ সদর থানার কাউনিয়ার শোভন আহম্মেদের বিয়ে হয়। কনস্টেবল শোভন আহম্মেদ হিন্দু ছিল তার পূর্ব নাম প্রেমানন্দ ক্ষতরিয়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ইয়াছমিনকে বিবাহ করেন এবং নিজের নাম রাখেন শোভন আহম্মেদ। ইয়াছমিনের পূর্বের স্বামী মারা যান। তার এক সন্তান রয়েছে। শোভনের সঙ্গে বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল।

তাদের সংসারে কোনো সন্তান নেই। ইয়াছমিনের ময়মনসিংহ শহরে ও নেত্রকোনা শহরে ৪টি বাড়ি, জমি-জমা দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাকের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দেওয়ানগঞ্জ বাহাদুরাবাদ শাখার ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে রয়েছেন। শোভন আহম্মেদ শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার কনস্টেবল হিসেবে রয়েছেন।

ইয়াছমিনের স্বজনরা জানায়, ইয়াছমিনের সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেয়ার জন্য বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কৌশলে চেষ্টা করেছে এবং মাঝে মধ্যে ইয়াছমিনকে নির্যাতনও করেছে তার স্বামী। শোভনের আগের ঘরের স্ত্রী ও সন্তানদের খরচের জন্য টাকা দিতেন তিনি।

আবার ইয়াছমিনও তার আগের একমাত্র সন্তানকে খরচ দিত। এই নিয়ে প্রায়ই তাদের বাকবিতণ্ডা হতো এবং ইয়াছমিনকে পিতার বাড়িতে যেতে দিতেন না। কয়েকদিন আগে ইয়াছমিন একমাত্র সন্তান ও তার পিতার সঙ্গে নেত্রকোনায় দেখা করেছেন।

মঙ্গলবার এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রী ইয়াছমিনের শরীরে পেট্রল নিক্ষেপ করে গ্যাসের জ্বলন্ত চুলায় ইয়াছমিনকে ফেলে দেয়। এ সময় ইয়াছমিনের শরীরে আগুন জ্বলে উঠলে তার চিৎকারে বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়।

সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে পাঠায় তার শরীরের অধিকাংশ ঝলসে গেছে।

বাসার মালিক অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, মধ্যরাতে চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখা যায় দরজা বন্ধ। ভেতরে ধোঁয়া আর চিৎকার শোনা যায়। এ সময় তার স্বামীর নাম ধরে দরজা খোলার জন্য চিৎকার করলেও তার স্বামী দরজা বন্ধ রাখে। একপর্যায়ে জোর করে দরজা খোলা হয়।

শ্রীবর্দী থানার ওসি রুহুল আমিন তালুকদার জানান, শ্রীবর্দী থানায় শোভন পূর্বের নাম প্রেমানন্দ নামে চাকরি করছেন। মঙ্গলবার থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি এমএম ময়নুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে ইয়াছমিনের বড় বোন হাজরা বেগম বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন। স্বামী কনস্টেবল শোভন আহম্মেদকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত পুলিশ কনস্টেবলের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩১,৮৫০,২০৯
সুস্থ
২৩,৪৪৯,৯০৭
মৃত্যু
৯৭৬,৫৬০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102