মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মির্জা ফয়সাল আমিনের এর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজোর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘর্ষ এড়াতে দুর্গা মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি ডিবির অভিযানে ১৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ঠাকুরগাঁওয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার! ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্রদের মাঝে গরুর বাছুর বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে মায়ের কবরে ছেলের লাশ উদ্ধার মামলায় গ্রেফতার ২ অভিনন্দন মোখলেছুর রহমান খান ভাসানী ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও এএসপি এনায়েত করিমের যৌথ প্রচেষ্টায় কবরস্থান পেলো বেদে সম্প্রদায় ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দফা দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

সাবধান, ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় জাল নোট কারবারিরা

বাংলার আলো ডেস্ক
  • হালনাগাদ সময় : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০
  • ৪১ বার

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের বাজারে ছাড়া হয়েছে লাখ লাখ টাকার জাল নোট। সেই সঙ্গে আরো নোট ছাড়তে রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে অর্ধশতাধিক চক্র। যারা ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার নোট জাল করে বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

গত ১৮ জুলাই, শনিবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বংশাল ও ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে বাংলাদেশি মুদ্রার জাল নোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামাদিসহ তিনজনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। আটকরা হলেন- আলম হোসেন (২৮), সাইফুল ইসলাম ওরফে লামু (৩২) ও মো. রুবেল (২৮)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশি ১০০০ ও ৫০০ টাকা নোটের ৩৫ লাখ জাল টাকাসহ জব্দ করা হয় ও জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি লেমিনিটিং মেশিন, ২টি কালার প্রিন্টারসহ বিভিন্ন উপকরণ।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাস বলেন, বংশাল থানার শহীদ নজরুল ইসলাম স্মরণীর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সামনে বাংলাদেশি জাল টাকাসহ কতিপয় ব্যক্তি অবস্থান করছে মর্মে গোপন সংবাদ পাই।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যার দিকে অভিযান পরিচালনা করে মো. আলম হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় আলমের কাছ থেকে ৩ লাখ বাংলাদেশি জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আলম স্বীকার করেন তার অপর দুই সহযোগী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কালিগঞ্জ পূর্বপাড়ার শহীদ বেলায়েত রোডের একটি বাসায় অবস্থান করছেন এবং তারা সেখানে বাংলাদেশি জাল টাকা তৈরি করে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত আলমকে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ওই বাসায় গিয়ে দল নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে লামু ও রুবেলকে আটক করা হয়। এ সময় বাসাটি থেকে ৩২ লাখ বাংলাদেশি জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে এসি মধুসূদন দাস বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই চক্রটি জাল নোট তৈরি করে আসছিল। কোরবানির পশুর হাট, শপিংমল ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সময় কৌশলে বাজারে জাল নোট ছেড়ে দেয় এই চক্রের সদস্যরা।

এ কাজে তারা সহযোগী হিসেবে সহায়তা নেয় হাবিব মোল্লা, জীবন, মজিবুর ও রানা নামের চার ব্যক্তির কাছ থেকে। এসব সহযোগীদের বিরুদ্ধে জালনোটের ব্যবসা করার অভিযোগে মামলাও রয়েছে। পূর্বে ডিবি লালবাগ টিম তাদেরকে গ্রেফতার করে আদারতে প্রেরণ করলে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় জাল টাকার ব্যবসায় জড়িয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় দেশী-বিদেশী জাল টাকার কারবারি চক্র ধরতে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও জানা যায়, সারাদেশে প্রায় দেড় হাজার জাল টাকার কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধানীন। গত দশ বছরে দেশের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ হাজার দেশী-বিদেশী জাল টাকার কারবারি চক্রের সদস্যকে। এর মধ্যে একইজন একাধিকবার গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে বের হয়ে আবারও জাল টাকার কারবারে তৎপরতা চালাচ্ছে এমন নজিরও আছে। গ্রেফতারকৃত জাল কারবারির মধ্যে নারী সদস্যও আছে।

বিভিন্ন অভিযানে জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস, কাটার, কোটি কোটি টাকার সমপরিমাণ জাল নোট প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কাগজ, কালি, জলছাপ দেয়ার সমাগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারীর মধ্যে আছে র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, ডিবি, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা বলেন, পবিত্র ঈদ-উল আজহার উৎসবকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে কোরবানির পশুহাটের আয়োজন চলছে। প্রস্তুত হচ্ছেন পশুর ব্যাপারি ও ক্রেতারা। শত শত কোটি টাকার কেনা-বেচা হবে। এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একশ্রেণীর প্রতারক চক্র। জালনোট ছড়িয়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে বেশকিছু চক্রের সদস্যরা। লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে লোপাট চালাতে পশুরহাটের ব্যাপারিরা এই চক্রের প্রধান টার্গেট। দেশব্যাপী এই চক্রের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। জালনোট বাজারে ছড়িয়ে দিতে বেছে নিচ্ছেন নানা কৌশল। তবে এসব চক্রের অপতৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন দিনগত রাত ১২টার দিকে খোদ রাজধানীর মিরপুর থানাধীন ১২/ই ব্লকের ৬২ নম্বর বাসায় এবং ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ কোটি টাকা সমমানের জালনোট (১০০০ টাকার নোট) এবং ৪০ লাখ টাকা সমমানের (৫০০ ও ২০০০ রুপীর নোট) ভারতীয় রুপীসহ একটি চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-২। অভিযানে জালনোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি (ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ডাইস, কাটার) উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জালনোট প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল (কাগজ, কালি, জলছাপ দেয়ার সামগ্রী) উদ্ধার করে র‌্যাব।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছরই ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই জালনোট কারবারি চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর তাদের টার্গেট থাকে পশুরহাটে আসা ব্যাপারিরা। আমরা এখন নজরদারি করছি, চক্রের সদস্যদের বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। বেশকিছু চক্রের মুভমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। কিছুকিছু ঘটনা ঢাকার বাইরে ঘটছে। ঢাকায়ও তারা তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করবে। তবে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। জালনোট তৈরি কারবারিদের গ্রেফতারে যে কোন সময় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

র‌্যারের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি মিরপুরের পল্লবী ও ভাটারা এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে আটক হওয়া আসামিরা খুব নিখুঁতভাবে জালনোট তৈরি করে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে লিপ্ত। চক্রের সদস্যরা ১০০ টাকার নোট পানিতে সেদ্ধ করে টাকার রং তুলে ফেলত। এরপর শুকিয়ে গেলে ওই টাকার কাগজের ওপর ৫০০ টাকার ছাপ দিত। এতে টাকার গোপন নকশা, জলছাপ ও নিরাপত্তার সুতা অক্ষুণ্ন থাকত। এই চক্রটির মূল হোতা সেলিম মিয়া ২০১৮ সালে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় রুপী ও জালনোটসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছিল। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জামিনে বের হয়ে তিনি একই কাজে পুনরায় লিপ্ত হন। জাল টাকার বিস্তাররোধ র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও আমরা অভিযান চালিয়ে অনেকগুলো চক্রের সদস্যকে আইনের আওতায় এনেছি। আগামীতেও আমরা মাঠে যথেষ্ট তৎপর থাকব।

র‌্যাব সদর দফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাহিনীর প্রতিষ্ঠালগ্ন (২০০৪ সাল) থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্নস্থানে এক হাজার ১৫১টি অভিযানে ১ হাজার ৮৮৮ জন দেশী-বিদেশী জালনোট প্রস্তুতকারী ও কারবারি গ্রেফতার হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে এক হাজার ১০০টি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। এসব অভিযানে ১১ কোটি ২০ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৪ টাকা সমমানের জালনোট (দেশ) জব্দ করে। এছাড়াও অভিযানে বিদেশী জালনোট ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৭ টাকা, ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬০০ ভারতীয় রুপী, ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ২৯২ ইউএস ডলার, ৪৭ হাজার ইউরো, ১৫ হাজার ১৮০ সৌদি রিয়াল, ৮ হাজার ৫৬০ ইরাকী দিনার, ১৪ হাজার ২৭ ইউএই মুদ্রা, ২ লাখ মিয়ানমারের কোয়াট, ৩ হাজার ৪০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ৫১ হাজার ৫০ পাকিস্তানী রুপী, ২ লাখ ৫০ হাজার তুরস্কের টাকার জালনোট/মুদ্রা জব্দ করা হয়। এছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অসংখ্য জালনোট তৈরির কারবারি গ্রেফতার হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৩,৫৮২,০০৫
সুস্থ
৩২,০৫০,৫৫০
মৃত্যু
১,১৬২,০৯০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102