প্রধান খবররাজনীতি

সহ-সম্পাদক না রাখার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের

আলোচিত-সমালোচিত সহ-সম্পাদক পদ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বুধবারের সভায় বিষয়টি অনুমোদনের পর দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের ২য় অধিবেশনে এটি উত্থাপন করা হবে। সেখানে কণ্ঠভোটে পাস হলে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র থেকে সহ-সম্পাদক পদটি উঠে যাবে। দলটির গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এ বিষয়ে বলেন, অতীতের অধিকাংশ কাউন্সিলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আপত্তি করেননি কাউন্সিলররা। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সে হিসেবে ধরেই নেয়া যায়, সহ-সম্পাদক পদ আর গঠনতন্ত্রে থাকছে না।

তারা জানান, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদক নিয়ে বর্তমান কমিটির শুরুতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের শিক্ষা জীবনে বা অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। শুধু কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশে আওয়ামী লীগের মতো দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। এমনও দু-একজন ছিলেন যারা অতীতে ছাত্রদল করতেন। সহ-সম্পাদকের তালিকায় তাদের নামও ছিল। বিষয়টি দলের হাইকমান্ড পর্যন্ত গড়ালে সহ-সম্পাদক পদ স্থগিত করে উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সে নিরিখে এ পদটি গঠনতন্ত্র থেকে বাতিলের প্রস্তাব করা হবে কাউন্সিলে। জানা গেছে, সহ-সম্পাদক পদ ব্যবহার করে অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে টেন্ডারবাজি করার অভিযোগও আছে অনেকে বিরুদ্ধে।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের আগে পরে এ সহ-সম্পাদক পদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। গঠনতন্ত্রে ৯৫ জন থাকার কথা থাকলেও বাস্ততে তা ৫ শতাধিক ছিল বলে সে সময় অনেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগ করেন। ২০১৭ সালে এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘গায়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগলেই বলে আমি সহ-সম্পাদক’। সে সময় তিনি সহ-সম্পাদকের পদ কমিয়ে আনা হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

২০ ও ২১ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। এ উপলক্ষে দলটির ১১টি প্রস্তুতি কমিটি কাজ করছে। ইতিমধ্যে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। এরমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের সামাজিক উন্নয়ন, সহ-সম্পাদক পদ বাতিলের সুপারিশ অন্যতম।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫(১)ক অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে- ‘সভাপতি বিভাগীয় (সম্পাদকীয় বিভাগ) উপকমিটিগুলো গঠন করিবেন। তিনি প্রত্যেক উপকমিটির জন্য অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহ-সম্পাদক মনোনীত করিবেন।’ একই ধারার ‘চ’-তে বিভাগীয় উপকমিটি গঠন নিয়ে বলা আছে- ‘আওয়ামী লীগ প্রত্যেক সম্পাদকীয় বিভাগের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি সম্পাদকীয় বিভাগে একটি করিয়া উপকমিটি গঠন করিবে। উক্ত উপকমিটি একজন চেয়ারম্যান, একজন সম্পাদক, অনূর্ধ্ব পাঁচজন সহ-সম্পাদক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ সদস্য, সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।’

আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দলটির ১৯টি বিভাগভিত্তিক সম্পাদকীয় কমিটি আছে। গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রত্যেকটি বিভাগভিত্তিক সম্পাদকীয় কমিটিতে ৫ জন করে সহ-সম্পাদক থাকার কথা। সে হিসাবে মোট সহ-সম্পাদকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫। কিন্তু জটিলতা এড়াতে বর্তমান কমিটির উপকমিটিগুলোতে কোনো সহ-সম্পাদক পদ রাখা হয়নি।

Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close
Close