শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

রোগীও দেখেন ওষুধও দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ঝাড়ুদার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হালনাগাদ সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৭ বার
রোগীও দেখেন ওষুধও দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ঝাড়ুদার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঝাড়ুদার দিয়ে চলছে চিকিৎসা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাঝেমধ্যে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। দেখভালের অভাবে নিয়মিত খোলা হয় না জেলার বেশ কয়েকটি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নাগেশ্বরীর বল্লভের খাস ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ঝাড়ুদার পঞ্চাশোর্ধ্ব মিনা রাণী পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করেই চিকিৎসা দিতে বসে গেলেন। প্রেসক্রিপশন দিতে না পারলেও রোগীর সমস্যা শুনেই চিকিৎসা ও ওষুধ দেন তিনি। বেশ কিছু ওষুধের নামও মুখস্থ তার। তিন বছর ধরে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে মাত্র ৫০০ টাকা বেতনে কাজ করছেন এখানে।

জানা গেছে, এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক ডেপুটেশনে অন্যত্র সুবিধা ভোগ করছেন। উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্টও নিয়মিত আসেন না। মাঝেমধ্যে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান। ফলে মিনা রাণীই রোগী দেখেন-ওষুধ দেন। দীর্ঘদিন এভাবেই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মিনা রাণী জানান, তিন বছর ধরে তিনি এখানে কাজ করছেন। রোগীর চাপ থাকলে চিকিৎসককে সহযোগিতা করেন। মাঝেমধ্যে চিকিৎসক না এলে নিজেই রোগী দেখা ও ওষুধ দেয়ার কাজটুকু করে থাকেন।

বল্লভেরখাস ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও চালু না থাকায় তার ইউপির মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। এছাড়া ইউপি কার্যালয় না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দোতলায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাঈল হোসেন ইউসুফ বলেন, বহুবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা কর্ণপাত করেনি। সীমান্ত আর নদী ভাঙন প্রবণ এলাকার গরিব মানুষ সরকারের স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বল্লভের খাস ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মতো একই অবস্থা নারায়ণপুর, কেদার, শিলখুড়ি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের। জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নারায়ণপুর ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। কয়েক বছর আগে সপ্তাহে একদিন করে খোলা হতো। এখন তাও হয় না। কেদার ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি তালাবদ্ধ, জানালার গ্লাস ভাঙা, ধুলায় ঢেকে আছে রোগীদের বেড। মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরঞ্জাম। শিলখুড়ি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সামনের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকান। রোগীদের জন্য বিনামূল্যে দেয়া ২২ ধরনের ওষুধ নিয়মিত বিতরণ দেখিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে বাইরে। এর আগে, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে অষ্টমীর চর, রমনা এবং রাজিবপুরের মোহনগঞ্জ ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের আট উপজেলায় ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৫৮টি। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে ৪০টি ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে রুলার ডিসপেনসারি ১৮টি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. নজরুল ইসলাম জানান, জনবল সঙ্কট ও করোনাভাইরাসের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যা কেটে যাবে।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬৬,০৯৬,০২৫
সুস্থ
৪৫,৭১২,২৪৮
মৃত্যু
১,৫২১,০১৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102