মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

রাণীশংকৈলে ভুট্টার বাম্পার ফলন, দামেও খুশি কৃষক

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৯ বার

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এ বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মগড় ও লেহেম্বা ইউনিয়নে ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। বাজারে ভুট্টার চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষক। প্রতিমন ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে ।

এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে উপজেলায় দ্বিগুণ ভুট্টা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে রাণীশংকৈল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, উপজেলায় এ বছর গত বছরের চেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে ভুট্টার গাছ আর গাছে গাছে ধরেছে মোচা। সেই মোচায় স্বপ্ন ডুবে আছে কৃষকের। ভুট্টার দানা পরিপক্ক হয়েছে এবং ঘরে তুলেছেন কৃষকের স্বপ্নের ভুট্টার ফসল।

কৃষকরা জানান, গম, ধানের নায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তাদের গমের চেয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এবছর উপজেলায় রবি ভুট্টা ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ও খরিপ ভুট্টা ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এবার ভুট্টার গড় ফলন প্রতি হেক্টর জমিতে ১০ থেকে ১১.৫০ টনের মধ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টার ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান গমের পাশাপশি ভুট্টা চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।
কৃষি অফিসের পরামর্শে আগাম জাতের ভুট্টা রোপন করায় নিবিড় পরিচর্যা আর রোগ বালাই কম হওয়ার কারণে রানীশংকৈলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার ভুট্টা চাষ করে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

উপজেলার একাধিক ভুট্টা চাষী এ প্রতিবেদক কে বলেন,
ভূট্টা একটি অর্থকারী এবং অত্যন্ত লাভজনক ফসল। মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগী ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভুট্টার চাহিদাও বেড়েছে অনেক বেশি। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ভালো ও দাম বেশি হওয়ার কারণে ভুট্টা চাষের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভুট্টা নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততা চলছে। জমি থেকে ভুট্টা তোলা, মেশিনে ভুট্টা আলাদা করা, ভুট্টা সংগ্রহের পর গাছ কেটে পরিস্কার করাসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বাড়ির সামনে চোখে পড়ছে নারীদের রোদে ভুট্টা শুকানোর দৃশ্য। কোন কোন বাড়ির সামনে তারা রোদে শুকাচ্ছেন ভুট্টার ডগা ও ডালপালাগুলো। এসব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবেন তারা।

কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলছেন,
দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ ও গবাদিপশু লালন-পালন বেড়েছে। আর মাছের ও গবাদিপশুর খাবার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ছে ভুট্টার। তাই ভুট্টার চাহিদাও থাকছে সব সময়। এ কারণে দামটাও পড়ে যাচ্ছে না। চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ভুট্টা চাষে আগ্রহও বাড়ছে। গত বছরের চেয়ে এবার ভুট্টার দাম ভালো হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102