বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ন

রাণিশংকৈলে ঝোপঝাড়েই মলত্যাগ এক পাড়ার ৩২ পরিবারের

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • হালনাগাদ সময় : শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬৭ বার

স্যানিটেশনের অভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার একটি পাড়ার ৩২টি পরিবারের সদস্যরা মলত্যাগ করছে ঝোপঝাড়ে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করতে পারছে না এখানকার বাসিন্দারা। পাচ্ছে না সরকারী সহায়তায়ও। তাই বাধ্য হয়ে ভোরের সূর্য ফোটার আগেই ৩২টি পরিবারের নারী পুরুষ মিলে প্রায় ১শত ৫০ জন মানুষকে সেরে নিতে হয় মলত্যাগের কাজ। এতে তাড়া আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া আমাশয়সহ কৃমিজনিত রোগে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নেকমরদ ঘনশ্যামপুর মৌজার একটি পুকুরের পাহাড় সরকারী সম্পত্তি হওয়ার সুবাদে, গত বছরের জুন মাসে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভুমিহীনদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করেন,তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহা। ভুমিহীনদের মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী হিন্দু মুসলমি ও হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাড়া মিলে মিশে সেখানে বসবাস করলেও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনের অভাবে তাড়া পরিবার পরিজন নিয়ে চরম সমস্যায় রয়েছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানান।

ঐ পাড়ার মালতি রাণি শান্তু পাহানসহ অনেকে বলেন, গত বছরে ইএসডিও নামক এনজিও’র সহায়তায় এবং আমাদের আবেদনের পেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি সোহাগ চন্দ্র সাহা এখানে আমাদের বাসস্থানের জন্য তিনশতক জায়গা নির্ধারণ করে ৩২টি পরিবারকে এখানে বসবাস করার সুযোগ করে দেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, ঋণ মাহজন করে মাথা গোঁজার ঘর করলেও অর্থনৈতিক অভাবে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট স্থাপন করতে আমরা পারিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরে ঘুরেও আমরা সরকারীভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারিনি। স্থানীয়রা মিলে মিশে কিছু ছোট সাইজের টিউবওয়েল স্থাপন করে পাড়ার পানি সরবরাহের ভোগান্তি কিছুটা কমিয়েছি। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট। তারা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের নাগরিক হয়েও আমরা অবেহেলিত কেউ আমাদের খোঁজ রাখে না। যা করতে হয় তা লড়াই করেই আদায় করে নিতে হয়। তাই আমরা নিজেদের অবেহেলিত হিসেবে দাবী করি।

তারা সরকারে উর্দ্ধধন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট সুপেয় পানির ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়ীগুলো যেন সরকারী সহায়তার মধ্যে আনা হয়।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৩টি গুচ্ছগ্রামকে স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনতে ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছি। অনুমোদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না শনিবার(২৮নভেম্বর) মুঠোফোনে বলেন, এখনো মানুষ ঝোপঝাড়ে মলত্যাগ করছে এটা ভাবতে অবাক লাগছে। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অব্যশই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102