মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমারে ফের গুলি, নিহত ৭ বিক্ষোভকারী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • হালনাগাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১
  • ৩৫ বার

মিয়ানমারে ফের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৭ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দেশটির মিয়াইং শহর এবং বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন মিয়াইং শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া অপর একজন মারা গেছেন ইয়াঙ্গুনের উত্তর ডাগন জেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ওই ব্যক্তির ছবি শেয়ার করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

ওই প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের জন্য জমায়েত হয়েছিলাম আমরা। হঠাৎ কোনও উস্কানি ছাড়াই গুলি ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পুলিশ গুলি চালানোর পর আহতদের নিয়ে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে হাসপাতালে যাই। সেখানে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

মিয়ানমারে কারাবন্দি কয়েদিদের সহযোগিতাকারী সংস্থা অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (এএপিপিএজি) জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন ৬০ বিক্ষোভকারী। এছাড়া কারাবন্দি করা হয়েছে ২ হাজার মানুষকে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটির সামরিক বাহিনী। আটক করা হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’সহ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও শাসক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে। দেশটিতে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

এরপর সারা দেশে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। যা এখনও চলমান আছে এবং ক্রমে তীব্র হচ্ছে। এরইমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে গত ২ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেত্রী অং সান সু চিকে মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে জান্তা সরকারকে জানানো আহ্বান ব্যর্থ হওয়ার একদিন পরই গোটা দেশে পুলিশের গুলিতে ৩৮ জন নিহত হন। এ পর্যন্ত কয়েকশ লোককে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু আন্দোলনকারী।

এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় বইছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডার মতো দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

গেল নভেম্বরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলে নেয় সেনাবাহিনী। সুষ্ঠু ভোটের মধ্য দিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা যথারীতি হস্তান্তর করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাইং।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102