বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৩ অপরাহ্ন

বাড়িতে থেকেই বেতন তুলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আলিম পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৫ বার
বাড়িতে থেকেই বেতন তুলছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে সরকারি গাড়ি নিয়ে শহরের নিজস্ব বাড়িতে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে। অফিস প্রধানের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য সেবা মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে ।একই কারণে সাধারন মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের স্বাস্থ্য সেবা থেকে।জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা.আব্দুল জব্বার শিকদার চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী পীরগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি তার খেয়াল খুশিমত অফিস পরিচালনা করে আসছেন। ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের নিজ বাসভবনে থেকে তিনি কর্মস্থলে যাতায়াত করে আসছেন।

অফিস প্রধান হিসেবে হাসপাতালের সরকারী বাসভবনে সার্বক্ষনিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক হলেও তিনি কর্মস্থল থেকে ৩৫ কি:মি: দুরত্বের নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন।সেখান থেকে সপ্তাহে ১/২ দিন অফিস করেন। অফিসে গেলেও তিনি ১১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত অবস্থানের পর নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন।
স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে এ হাসপাতালে কোটি টাকা মূল্যের সরকারী গাড়ী বরাদ্দ ( ঢাকা মেট্রো-১৮-৫৭০৮) দেওয়া

হলেও তা স্বাস্থ্য বিভাগের কাজে ব্যবহার করা হয় না। গাড়িটি ব্যবহার করা হচ্ছে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মান উন্নয়নে। অভিযোগ রয়েছে,করোনা মহামারীতে এ উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কোন সহযোগীতা পাননি। করোনা রোগীদের নিয়মিত খোঁজখবর ও মনিটরিংয়ের কথা থাকলেও আক্রান্তরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরামর্শ পাওয়া তো দূরের কথা স্বজনরা তার সাক্ষাতও পাননি।

এ ব্যাপারে শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী, জগন্নাথপুর গ্রামের মারফত আলী, বলিদ্বারা গ্রামের আব্দুস সালাম সহ অনেকে জানান,টিএইচএকে অফিসে পাওয়া যায় না। ২৯ আগষ্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোটা সপ্তাহের বৃহষ্পতিবার মাত্র ২ ঘন্টা অফিস করেছেন তিনি। শনিবার দুপুরে তার জেলা সদরের নিজ মালিকানাধীন স্বপ্ননীড় নামীয় ৫ তলা বাসভবনের নীচে উপজেলা অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত ঢাকা মেট্রো-১৮-৫৭০৮নং গাড়ীটি পার্কিং অবস্থায় দেখা যায়।আব্দুস সুবহান ও রাজা মিয়া নামে কয়েকজন জানান, বেশ কয়েক মাস ধরেই সরকারী গাড়ীটি ঐ বাসায় সার্বক্ষনিক পার্কিং থাকা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ব্যাক্তিগত কাজে সরকারী গাড়ী ব্যবহার করে এই কর্মকর্তা প্রতিমাসে অফিস থেকে ফুয়েল বাবদ প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন যা হিসাব রক্ষন অফিসের সুত্র নিশ্চিত করেছে।

তার অনুপস্থিতির আবহ সারা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকার পরেও রাত ১০টার পরে জরুরী বিভাগে কোন ডাক্তার থাকেন না। একারণে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন মানুষ। দিনের বেল তেও একই অবস্থা। দুপুর ১টার পরে ডাক্তাররা রোগী দেখেন না । বর্তমানে ১৫ জন ডাক্তার থাকলেও সমন্বয়হীনতা ও তদারকির অভাবে এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অফিস প্রধানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বলেন, এই কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত সভা করেননা। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সভা হয়না। কোন সমন্বয় বা মনিটরিং নেই, তিনি নিজের খেয়াল খুশিমত চলেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ.সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুল ইসলাম বলেন, আমিও শুনেছি নানা রকম অব্যবস্থাপনার কথা কিন্তু মাসিক মিটিং না হলে এসবের সমাধান হয় কি করে?

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার বলেন,তার বিরুদ্ধে ঊত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪১,১১৫,৫০১
সুস্থ
৩০,৬৬৬,৯০৪
মৃত্যু
১,১৩০,৬৯৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102