শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের পীর সাহেবের কান্ড দেখেন

ডেস্ক রিপোর্ট
  • হালনাগাদ সময় : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭৩ বার

একরামুল আহসান কাঞ্চন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর সিন্ডিকেটের হয়রানিমূলক ৪৯টি মামলা দায়েরের ঘটনায় সিআইডির প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পীর সাহেবের কাণ্ড দেখেন! জায়গা-জমি দখলের জন্য পীর সাহেবরা অনুসারী-মুরিদদের দিয়ে কী করান- দেখেন! যেখানে একজন মানুষকে একটা মামলা দিলেই জীবন শেষ হয়ে যায়, সেখানে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত মামলা! এটা তো সিরিয়াস ব্যাপার।’

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘একরামুল আহসান কাঞ্চনেরা তিন ভাই এবং এক বোন। ১৯৯৫ সালে তাঁদের বাবা ডা. আনোয়ারুল্লাহ মারা যান। রাজারবাগ দরবার শরিফের পেছনে তিন শতাংশ জমির ওপর তিনতলা বাড়ি কাঞ্চনদের। বাবার মৃত্যুর পর কাঞ্চনের বড় ভাই আক্তার-ই-কামাল, মা কোমরের নেহার ও বোন ফাতেমা আক্তার রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর সাহেব দিল্লুর রহমানের মুরিদ হন।’

তবে রিট আবেদনকারী ও তার অপর ভাই ডা. কামরুল আহসান বাদল ওই পীর সাহেবের মুরিদ হননি। এরই মধ্যে একরামুল আহসান কাঞ্চনের মা, ভাই ও বোনের কাছ থেকে তাদের পৈতৃক জমির অধিকাংশই দরবার শরিফের নামে হস্তান্তর করা হয়। আর একরামুল আহসান কাঞ্চন ও তাঁর ভাইয়ের অংশটুকু হস্তান্তর করার জন্য পীর সাহেব দিল্লুর রহমান এবং তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে চাপ দেন। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তর না করায় দিল্লুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে একরামুল আহসান কাঞ্চনের শত্রুতা সৃষ্টি হয়। সে কারণেই একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা করা হয়।

সিআইডির এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সর্বমোট ৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ২৩টি এবং সিআর মামলা ২৬টি। এরই মধ্যে জিআর ১৫টি মামলায় এবং সিআর ২০টি মামলায় আবেদনকারী আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ১৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন। যার মধ্যে আটটি জিআর এবং ছয়টি সিআর মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলার নথিপত্র সংগ্রহের পর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার, নারী নির্যাতন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, হত্যার চেষ্টা মামলাসহ প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধর্তব্য ও অধর্তব্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো সম্পর্কে প্রকাশ্য ও গোপনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, অধিকাংশ মামলার বাদী, সাক্ষী, ভুক্তভোগীরা কোনো না কোনোভাবে রাজারবাগ দরবার শরিফ এবং পীর সাহেবের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হওয়ার প্রেক্ষাপটে একরামুল আহসান কাঞ্চন ন্যায়বিচার পেতে এবং এ ঘটনার পেছনে কারা তা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) একরামুলের বিরুদ্ধে হওয়া ৪৯টি মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রুলসহ আদেশ দেন। এরপর মামলাকারীদের কয়েকজন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। আজ রবিবার সিআইডির প্রতিবেদন দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আপিল বিভাগের আদেশটি দেখার জন্য এ বিষয়ে শুনানি এক সপ্তাহ মুলতবি করেন।

আদালতে একরামুল আহসান কাঞ্চনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। অপর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102