বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
অভিনন্দন মোখলেছুর রহমান খান ভাসানী ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও এএসপি এনায়েত করিমের যৌথ প্রচেষ্টায় কবরস্থান পেলো বেদে সম্প্রদায় ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দফা দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন পূজা মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতির পর প্রবেশ নিষেধ চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীতে ঝিঁনুক তুলতে নেমে নিখোঁজ, ২৪ ঘন্টা পর কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার ‘বিয়ে পাগলা’ ছেলে হাতুরিপেটা করলেন বৃদ্ধ বাবাকে ‘মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না’ দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিল স্বামী বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: ফখরুল বাংলাদেশে লাখো পোশাকশ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এক গরীবের বন্ধুর গল্প !

বাংলার আলো ডেস্ক
  • হালনাগাদ সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮০ বার

কিভাবে দেশকে ভালবাসা যায়! কিভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়! অসহায়, দুঃখী, দরিদ্র মানুষকে আগলে রাখা যায় অর্থাৎ সবসময় মানুষের সেবায় সবসময় প্রস্তুত থাকা যায় তা অনুধাবণ করা যায় এই মহান নেতার জীবন আলোচনায়।

যদিও এমন মানুষের সম্পর্কে সম্পূর্ণ কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয় তবুও কিছুটা সাহস দেখাতে মন চাইছে।

নীরবে নিভৃতে দল, দেশ ও মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে পারা একজন মানুষ মরহুম আলী আকবর সাবেক এমপি। ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা নফিজ উদ্দিন সরকার, মা রাবেয়া খাতুন। ভাইবোনদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র অথচ সাহসী মানুষ ছিলেন তিনি।মানুষকে আকৃষ্ট করার অসম্ভব সম্মোহনী শক্তি ছিল তাঁর।
ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন যদিও তৎকালিন প্রতিকুল পরিবেশ ছিল। ‘৫২র ভাষা আন্দোলন তখন তিনি স্কুলের গন্ডি পার হননি সেই সময়ও জেলা, মহকুমা পর্যায়ের স্কুল-কলেজগুলোতে আন্দোলনের হাওয়া বইছিল। সেখানেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে বাড়ি ফিরেই তাঁকে এলাকাবাসী লোকাল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে দেন। তৎকালিন সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন (১৯৬৫)।

বঙ্গবন্ধুর দেয়া ‘ছয় দফা’র দাবীতে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে দল গঠন ও জনমত সৃষ্টি চলছে। ১৯৬৬ সালে রানীশংকৈল থানা কমিটি গঠন হয়। সেই কমিটির সভাপতি আলী আকবর ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলীকে নির্বাচিত করা হয়। তারপর থেকে তাঁর আর ঘরে ফেরা হয়নি অর্থাৎ অবসর নেয়া হয়নি।তিনি জেলা আওয়ামীলীগ এর সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

তিনি দলের দুঃসময়ে নেতা কর্মীদের নিজ অর্থায়নে পরিচালিত করছেন। নেতৃত্বে নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব সংঘাত বা ভুল বুঝাবুঝি হলে তিনিই মধ্যস্ততাকারি হয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন। আর একারণেই তিনি দল এবং গণমানুষের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

ছয় দফার শ্লোগানে শ্লোগানে মুখোরিত ছিল গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পথে, ঘাটে তৃণমূল সৎ, ত্যাগী এমন নেতাদের নিয়ে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটি গঠন করেন এবং তাঁরা সেই সময় ঝটিকা মিছিল, গোপন বৈঠক করে জনমত সৃষ্টি করেছেন।

‘৬৯এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০এর সাধারণ নির্বাচন, ‘৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান সর্বজন সীকৃ‌ত। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে সেই রেসকোর্স মাঠে অনুপ্রাণিত হয়ে ঝাপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সংগ্রাম কমিটি গঠন করেন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে। সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শহীদ নফিজ উদ্দিন মাষ্টার ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী ছিলেন আর আলী আকবর ছিলেন সহ-সভাপতি।

পাক সেনারা ও দেশিয় রাজাকাররা টের পেয়ে যায় তারা যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকেই নফিজ উদ্দিন মাষ্টারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। তারপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আলী আকবর এবং তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, বিচক্ষণতার মধ্যদিয়ে কিছুদিন নিজ এলাকায় এবং পরে ভারতে গিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করেন। এমনকি নিজেও ৬ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেন।

ভারতে শরণার্থী শিবিরে মানুষের খাদ্য চিকিৎসা সহ অন্যান্য বিষয় খুব আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস পর দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু মানুষের হাহাকার বাড়ি-ঘর লুটপাট করে জ্বালিয়ে দিয়েছে পাক সেনারা, মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরেছে কিন্তু সেখানে খাদ্য নেই চিকিৎসা নেই। এসব মানুষকে পুনর্বাসন করেছেন তিনি। আজো সেইসব দিনের মানুষেরা আলী আকবরের কথা মনে হলে কাঁদেন।

বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরলেন তাঁর দিক নির্দেশনায় তিনি যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। কখনো নীতিভ্রষ্ট হননি। শত প্রলোভন তাঁকে লাইনচ্যুত করতে পারেনি। জিয়া, এরশাদ সরকারের মানসিক নির্যাতন, মামলা হামলার শিকার হয়েছেন কিন্তু মাথা নত করেননি। তাঁর সততা, নিষ্ঠা, মানুষের প্রতি ভালবাসা, দলের আনুগত্যের কারণে বঙ্গবন্ধু তাঁকে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর প্রথম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক দিয়েছিলেন এবং বিপুল ভোটে তিনি ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এসময় তিনি অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির , মাদ্রাসা, রাস্তা ঘাট,ব্রীজ, কালভার্ট, ব্যাংক,বীমা নির্মাণ করেছেন। অসংখ্য মানুষের কোন বিনিময় ছাড়া কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বাঙালীর জীবনে যে অমানিশা নেমে আসে তা আমরা সবাই জানি। অনেক নেতা কর্মী ভয়ে হোক বা প্রলোভনে পরে হোক দলের সাথে বেঈমানী করেছে কিন্তু মরহুম আলী আকবর বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ও দলের সাথে বেঈমানী তো করেন নি বরং দলকে, নেতা কর্মীকে সন্তানের মত আগলে রেখেছিলেন। আর তাইতো সেই সুফল আমরা এখনো ভোগ করছি।

তিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে দলের মানুষ গণমানুষের কাজ করেছেন আজীবন। তাঁর কাছ থেকে জানা যায় তিনি রিলিফের বেঁচে যাওয়া অর্থ বঙ্গবন্ধুকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু তাঁকে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে প্রসংশা করেছিলেন। তাঁর চরিত্রের বড় বৈশিষ্ট ছিল সততা, নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি ভালবাসা।গরীবের বন্ধু হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন।

রাজনীতি করে তাঁর সম্পত্তি নষ্ট করেছেন ঠিকই এজন্য পরিবারের কোন আক্ষেপ নেই যে সম্পদ তিনি রেখে গেছেন তাই তাঁর সন্তান পরিবার আজীবন গর্বের সাথে চলতে পারবে।

কালের বিবর্তনে সমাজ, রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এমন রাজনীতিবিদ বিরল। তাই এই রকম ক্ষণজন্মা মানুষদের জীবনাদর্শ, জীবনালোচনা করা প্রয়োজন এবং এঁদের বর্ণাঢ্য জীবনী লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ক্ষণজন্মা এমন নিবেদিত প্রাণ মানুষটির শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও তাঁর কর্ম তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে, বহমান নদীর মত। তাঁর কীর্তি দৃশ্যমান হোক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রত্যাশা করি। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই মরহুম আলী আকবরের প্রতি।

লেখক- সেলিনা জাহান লিটা ( সাবেক সংসদ সদস্য ও সহ-সভাপতি জেলা আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪১,৪৬৯,৬২৪
সুস্থ
৩০,৯০৯,৬৪৩
মৃত্যু
১,১৩৬,২৬০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102