শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

ফার্মাসিস্ট থেকে রাতারাতি কোটিপতি পীরগঞ্জের আলমগীর !

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪০ বার

অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ !

ফার্মাসিস্ট পদে ২০১১ সালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি জীবন শুরু করলেও কয়েক বছরের মাথায় তিনি বনে যান বেকার ফার্মাসিস্টদের একটি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। সংগঠনটির শীর্ষ পদে থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কৌশলে বেকার ফার্মাসিস্টদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। রাতারাতি বনে যান কোটিপতি।
আলমগীর রহমান নামের এই ফার্মাসিস্টের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মালগাঁও হারিয়াকন গ্রামে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

তার এ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ বিভিন্ন দপ্তরে গত ২৭ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দায়ের করা ওই লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আলমগীর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে তার চাকরি জীবন শুরু করেন ২০১১ সালে। ২০২০ সালের মে মাসে সরকারিভাবে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১তম গ্রেডে ফার্মাসিস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগ দেন তিনি।

আরও জানা যায়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের হাতে সঠিক ওষুধ বুঝিয়ে দিতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের বিধান থাকায় ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি ৬৩৭টি শূন্য পদে ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনের ‘ফার্মাটেক’ শিক্ষার্থীদের রিটের কারণে আটকে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া। এরপর শুরু হয় বেকার ফার্মাসিস্টদের আন্দোলন। দাবী আদায়ে গড়ে উঠে বাংলাদেশ বেকার ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন এবং এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান আলমগীর রহমান।

বেকার ফার্মাসিস্টদের সরকারিভাবে হাসপাতালগুলোতে নিয়োগের দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে যায় সংগঠনটি। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়েই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর এ সুযোটি কাজে লাগিয়েই পীরগঞ্জের স্থানীয় দুলাল ও নুরুজ্জামান সহ বিভিন্ন জেলায় তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বেকার ফার্মাসিস্টদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। টাকা নিয়ে চাকরিও পাইয়ে দিয়েছেন যেমন অনেককে তেমনি প্রতারণার শিকারও হয়েছেন অনেকে। তবে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা চাকরির প্রত্যাশায় তার বিরুদ্ধে মুখও খুলতে পারছেন না।

বর্তমানে আলমগীর রহমান বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সচিব হিসেবে রয়েছেন।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, নিয়োগ বাণিজ্যের প্রায় ৪ কোটি টাকায় তিনি নিজ এলাকা পীরগঞ্জ, পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর সহ ঢাকা ও বগুড়ায় গড়েছেন নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ। আম বাগান, একাধিক পুকুর, গরুর খামার, আবাসিক প্লট ও ফ্লাট সহ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চৌরাস্তার পাশে ‘গুড বাই’ নামে একটি বিলাসবহুল শপিং কমপ্লেক্সও দিয়েছেন আলমগীর।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ফার্মাসিস্ট আলমগীর রহমান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সব বানোয়াট ও মিথ্যা।”

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই শুনেছি, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬৫,৫৬০,৬৮০
সুস্থ
৪৫,৩৯৫,৭৩৪
মৃত্যু
১,৫১২,২৫৫
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102