শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৯ অপরাহ্ন

দুদকের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন আরো ২০ এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • হালনাগাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৬ বার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসছেন ক্ষমতাসীন দলের আরো ২০ জন এমপি। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, খাসজমি দখল, ঘুষ গ্রহণ, ক্যাসিনো ব্যবসা, কমিশন, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০ জন সাবেক ও বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক। ওই সব এমপির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, গণপূর্তসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক।

এমপিদের দুর্নীতির বিষয়ে অনুসন্ধানের কাজ করছেন এমন কয়েকজন দুদক কর্মকর্তা বলছেন, শুধু এমপি শহিদ ইসলাম পাপুল আর সেলিনা ইসলামই নন, নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বর্তমান ও সাবেক আরো ২০ জন এমপি দুদকের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন। দুদক কার্যালয়ে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী এবং অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের পাওয়া তথ্যে গরমিল থাকার পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে দুদক। খুব শিগগিরই ওই সব এমপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কমিশন।

এ বিষয়ে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে থাকা এমপিদের বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যথাসময়ে আমরা এসব তদন্তের ফল দিতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো কাজে থেমে নেই। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চেষ্টা করি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁদের আইনের সম্মুখীন করা। এ ব্যাপারে কোনো বিলম্ব হবে না। শিগগিরই তা করব।

আমাদের কাছে কোনো দল নেই, দলমত, ব্যক্তির ঊর্ধ্বে আমরা কাজ করি। আইন আমাদের যেভাবেই নির্দেশ করে সেভাবেই আমরা কাজ করি।’

দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, খাসজমি ইজারায় দুর্নীতি, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মসহ অন্তত ২০ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির একটি অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে। এরপর যাচাই-বাছাই করে তা অনুসন্ধানের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

এরই মধ্যে ওমর ফারুক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এক অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

১০ থেকে ২০ শতাংশ ঘুষ নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ আসনের এমপি স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। তাঁর সম্পদ খতিয়ে দেখতে আগামী ৩ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।

গত বছর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর দুই শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা করে তাঁদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে মাঠে নামে দুদক। এরই মধ্যে এই তালিকা থেকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে দুদক।

ওই সময় দুদকের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকায় উঠে আসে আওয়ামী লীগের আরো কয়েকজন এমপির নাম। তাঁরা হলেন—সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সামশুল হক চৌধুরী ও বরিশাল-১ আসনের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ।

তালিকায় যাঁদের নাম আছে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে দুদক। গত বছর এই অনুসন্ধান শুরুর পরপরই অনেককে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুদক।

ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পৃথক অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীর বিরুদ্ধেও।

এরই মধ্যে মাহী বি চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্প্রতি তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের হিসাব জমা দিতে নোটিশ পাঠিয়েছে কমিশন।

বর্তমান সংসদের ১০ জন এমপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন এমন অন্তত ১০ জন সাবেক এমপির বিরুদ্ধে দায়িত্ব থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান করছে দুদক।

এই তালিকায় রয়েছেন—আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বি এম মোজাম্মেল হক, নরসিংদী-২ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন, যুবলীগ নেতা, আওয়ামী লীগ নেতা চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি শামসুল হক ভূঁইয়া।

বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন লালমনিরহাট-৩ আসনের আসাদুল হাবিব দুলু, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. শাহজাহান, বগুড়া-৩ আসনের আব্দুল মোমিন তালুকদার ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি মো. শহিদুজ্জামান ইসলাম বেল্টুও।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবং পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক।

এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তাঁর স্ত্রীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ১৪৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার সম্পত্তি গোপন করার অভিযোগে এমপি পাপুলের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন আক্তারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন ঢাকার ১ নম্বর সমন্বিত অফিসে এমপি ও তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান আরো বলেন, আজ (গতকাল) দুইজন এমপি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের শহিদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, তাঁদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও এমপি শহিদুল ইসলামের শ্যালিকা জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জেসমিনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর রূপান্তরের তথ্য পাওয়ায় এই মামলা করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা আসামিদের গ্রেপ্তার প্রয়োজন মনে করলে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেন। এটি একটি চলমান আইনি প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, মামলার তদন্তে যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে কুয়েতের কারাগারে থাকা শহিদুল ইসলাম পাপুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬১,৩৩১,৭১০
সুস্থ
৪২,৪১১,৩০৮
মৃত্যু
১,৪৩৮,০৯৬
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102