বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:১১ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে চাঁদাবাজের হুমকিতে গৃহবন্দী একটি পরিবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ১৪৮ বার

ঠাকুরগাঁওয়ের বরুণাগাও এলাকায় একদল চাঁদাবাজের হুমকিতে গত কয়েকদিন ধরেই গৃহবন্দী হয়ে জীবনযাপন করছে একটি পরিবার। একদিকে তাদের অত্যাচারে যেমন অতিষ্ঠ গ্রামবাসী অপরদিকে তাদের আতংকে দিশেহারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ।

ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা লালচাঁন জানান,আমরা বের হলেই মেরে ফেলবে। তাই বাসা থেকে বের হতে পারছিনা। আমাদের বাজার করে দিচ্ছে প্রতিবেশীরা। থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু ওরা পুলিশকে ভয় পায় না। চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ কাউকেই ভয় পায় না।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ৮০ শতাংশ জমিতে লালচানের একটি লিচুর বাগান আছে। বাগানে ৫০ টি লিচুর গাছ রয়েছে। এলাকার কিছু যুবক সেই বাগানের ওপর ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় বাগানে প্রবেশ করতে নিষেধ করে বাগান মালিককে। বাগান মালিক লালচান টাকা না দিয়ে বাগানের লিচু পাড়তে গেলে সেই যুবকেরা তাকে ও তার সন্তানকে মারধর করে। পড়ে লালচান দৌড়ে পালিয়ে ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশি সহায়তা নেয় ও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরে এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে একটি গণপিটিশন দিয়েছি। এতে করে অভিযুক্ত যুবকেরা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয় এবং চাঁদার পরিমান বাড়িয়ে এক লক্ষ করে। টাকা ছাড়া বের হলেই মেরেফেলার হুমকির দেয় তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি সদস্য খাদেমুল বলেন, ঘটনাটি আমি জানি। লালচানের পরিবার অসহায়। তাই তাদের বিষয়ে কথা বলতে আমি বেশ কয়বার নয়ন ও আলামিনের( অভিযুক্ত যুবক) সাথে কথা বলেছি। কিন্তু ওরা শুনেনি। ওরা অনেক বেপরোয়া। কিছুদিন পর পরই তাদের এমন অভিযোগ শোনা যায়। আমাদের পুরো এলাকাই অতিষ্ঠ। ওদের কিছু বলা যায়না। কিছু বললেই মারপিট ও হত্যার হুমকি দেয়। তাই আমি তাদের(ভুক্তভোগী পরিবারকে) গণপিটিশন দেওয়ার পরামর্শ দেই। পরে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, ডিআইজি ও থানার অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর গণ পিটিশন পাঠিয়েছে।

প্রতিবেশী বাবুল জানান, লালচান ও তার ছেলেকে এসে তারা মেরেছে এখন নাকি বের হলেই মেরে ফেলবে। তাই তারা বাসা থেকে বের হচ্ছে না। আমরা মাঝে মাঝে তার পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজার বাসায় দিয়ে আসছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রতিবেশী জানায়, মাস খানেক আগে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিলো। আমি ভয়ে তাদের কে টাকা দিয়ে দিয়েছি। তাদের উপরে কথা বলার কেউ নেই।

ইউপি চেয়ারম্যান মুকুলের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বিষয়টা এড়িয়ে যান, তিনি বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আসাকে সেইভাবে কেউ অভিযোগ করেনি।

এবিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বাই পোষ্ট একটি গণপিটিশনও পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102