সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মির্জা ফয়সাল আমিনের এর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজোর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘর্ষ এড়াতে দুর্গা মন্দিরে ১৪৪ ধারা জারি ডিবির অভিযানে ১৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ঠাকুরগাঁওয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার! ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্রদের মাঝে গরুর বাছুর বিতরণ ঠাকুরগাঁওয়ে মায়ের কবরে ছেলের লাশ উদ্ধার মামলায় গ্রেফতার ২ অভিনন্দন মোখলেছুর রহমান খান ভাসানী ডিআইজি হাবিবুর রহমান ও এএসপি এনায়েত করিমের যৌথ প্রচেষ্টায় কবরস্থান পেলো বেদে সম্প্রদায় ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দফা দাবিতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

ঠাকুরগাঁওয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি !

সংবাদদাতার নাম
  • হালনাগাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৯৪ বার

স্টাফ রিপোর্টার : ঠাকুরগাঁওয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী ও ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা নূর ইসলামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের অন্তর্গত ১৪ হাত কালিতলা এলাকার জনগণ। সম্প্রতি তার অবৈধ দখলকৃত ডেরাটি বেহাত হওয়ায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দেওয়ায় বর্তমানে আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে সেই এলাকার জনগণসহ দোকান মালিকরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সরেজমিনে গেলে উঠে আসে তার অত্যাচারের বিভিন্ন নিদর্শন।

জানা যায়, গত ৫ বছর আগে কালিতলা নামক স্থানে নিজেকে ট্রাক ট্যাংকলরী ও কাভার্ড ভ্যান ইউনিয়নের সা: সম্পাদক দাবি করে সেখানে কথিত শাখা অফিস খুলে নূর ইসলাম। এরপর এভাবেই পেরিয়ে যায় চার বছর। গত এক বছর আগে কালিতলা বাজারে ভাড়া নেওয়ার কথা বলে নূরে আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি দোকান ঘর বরাদ্দ নেয় এবং সেখান থেকে সে তার মাদকের রাজ্য পরিচালিত করতে থাকে। পরবর্তীতে নূর আলম তার দোকান ঘরের ভাড়া চাইতে গেলে সে নিজেই সেই জমির মালিক বলে দাবি করে। এ ঘটনায় নূর আলমের প্রতিবন্ধী ভাই মজিবর তাদের দোকান ঘরে মুরগীর দোকান করতে ঘেড়া-বেড়া দিতে গেলে বাসিলা দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে নূর ইসলাম ও তার ছেলে আনারুল। এ বিষয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ দেয় দোকান মালিক নূরে আলম ও তার প্রতিবন্ধী ভাই আহত মজিবর। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাক ট্যাংকলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের শাখা অফিসের কার্যক্রম স্থগিত রাখে।

এলাকাবাসি ও আশেপাশের দোকানদাররা জানায়, নূর ইসলাম ও তার সহযোগিদের মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মের কারণে এলাকায় (সালন্দর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড) ইউপি চেয়ারম্যান মুকুলকে সভাপতি করে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং কমিটিতে যারা পদ-পদবীতে আছেন তাদের মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে চলেছেন। তারা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ ঘরে থাকলেও তার ডেরায় নিয়মিত মাদক সেবিদের আনাগোনা ছিলো।

এদিকে তার হুমকির পর পরই কালিতলার মা-বাবা দোয়া নামক দোকানের মালিক জীবনকে ৩০ এপ্রিল মাদক দিয়ে ফাঁসানোরও চেষ্টা করে এই নূর ইসলাম। পরে এলাকাবাসির প্রতিবাদের মুখে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকার দোকান মালিকরা। তাদের ভাষ্য, যারা ওই মাদক নির্মূল কমিটিতে আছে তাদের প্রত্যেককে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি-ধামকি অব্যাহত রেখেছে নূর ইসলাম।

এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে।ওই এলাকার সুমি নামে এক নারী জানান, নূর ইসলাম তার কাছ থেকে কিছুদিন আগে ৫শতক জমি ক্রয় করে। জমি রেজিষ্ট্রির সময় দাগ নং ভূল হওয়ায় সে আমাকে এবং আমার মৃত স্বামী শিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্নজনের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেয়। এমনকি তার ম্যানেজারের একটি মটরসাইকেল জোর করে ছিনিয়ে নেয় সে।

সালন্দর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার সাহাবুদ্দিন জানান, নূর ইসলামের মাদক ব্যবসা বন্ধে ইউনিয়নের প্রত্যেক মাসিক মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও তার মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপকর্ম বন্ধ করা যায়নি। বরং সে আমাকে দেখলে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে “ ওসি-ডিসি আমার পকেটে থাকে, আর তোর মতো মেম্বার আমার কি করবে”।

এ বিষয়ে জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: জয়নুদ্দিন জানান, কালিতলায় আমাদের শাখা অফিস আছে, তবে বর্তমানে সেখানে কোন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। নূর ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে সে কমিটিতে ছিলো, তবে এখন কোন পদে নেই।

এ বিষয়ে সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম মুকুলের কােছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধে একটি মাদক নির্মূল কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি ওই কমিটি অনেক শক্ত, তারা নিজেরাই এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে সক্ষম হবে। তাছাড়া আমার ইউনিয়নে মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় নেই।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সদর থানা পুলিশ। কালিতলা নামক স্থানে সম্প্রতি মাদকের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার তথ্য রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৩,৩২৩,৩৮৩
সুস্থ
৩১,৮৯৭,০৭৯
মৃত্যু
১,১৫৮,৮০৭
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102