শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে মামলা বাংলাদেশ উন্নয়নের বিষে লাল হয়ে গেছে; রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে যুবদলের বিক্ষোভ উলিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে দুদক ঠাকুরগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ, বাধাঁ দেওয়ায় ইউপি সদস্য লাঞ্ছিত ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির রোমান বাদশা এবার নৌকার মাঝি! নৌকা প্রতিক পেয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানালো চেয়ারম্যান মুকুল ২৩ ডিসেম্বরে হচ্ছে না চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত স্বতন্ত্রপ্রার্থী বকুল কাল থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট

ঠাকুরগাঁওয়ে ঘরের অভাবে ৮৪ বছর বয়সেও রাত কাটে অন্যের বারান্দায়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ১১ বার

জীবনের শেষ লগ্নে এসেও একটি ঘরের অভাবে থাকার জায়গা নাই , তাই জীবন বাঁচানোর তাগিদে রাত কাটাতে হচ্ছে অন্যের বারান্দায়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসেও দু’মুঠো ভাত আর থাকার মত একটি ঘরের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে ৮৪ বছর বয়সী উপেন চন্দ্রকে।

জীবন বাঁচানো ও জীবিকার তাগিদে শেষ বয়সেও ক্র্যাচে ভর দিয়ে সারাদিনই অনেক কষ্ট করে ঘুরতে হয় মানুষের দ্বারে দ্বারে। নিজের একটি ঘরের আশায় এখনো তিনি স্বপ্ন দেখেন, হয়তো কোন একদিন শেষ হবে অসহায় উপেনের এই জীবন সংগ্রাম।

উপেন চন্দ্রের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের সাজগাঁও গ্রামে। একই এলাকার বন্ধু ভেলসু রাম ও উপেন ছোটবেলা থেকেই কাজ করতেন অন্যের বাসায়। তারা কাজেও ছিলেন বেশ দক্ষ । এখন বয়সের ভাড়ে নূয়ে পড়ায় এখন আর পারেন না আগের মত কাজ করতে। বিয়ের পর সংসারও টেকেনি উপেন চন্দ্রের। তার স্ত্রী-সন্তান বলতে কিছুই নেই। সময়ের ব্যবধানে এখন শুধুই শূন্যতা উপেনের। কথা হয় উপেনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কালোশ্বরির সাথে, কথার মাঝে তিনি বলেন আমি নিজেই অনেক গরিব। অন্যের বাসায় কাজ করে কোনমতে জীবনযাপন করি। কোনরকমে থাকার মত একটি ঘর ছাড়া কিছুই নেই আমাদের। বড় দাদা উপেন আমাদের ঘরের বারান্দায় থাকেন। আমরা যতটুকু সম্ভব দাদাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তিনি নিজেও সকাল হলেই ঘুম থেকে উঠে বের হয়ে যান। সারাদিন বাইরে থেকে যা সাহায্য সহযোগিতা পান তা দিয়েই খাবার খান। কোন কোন দিন না খেয়েই চলে যায় তার। রাতে এসে শুধু ঘুমান। কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে উপেন বলেন, ভালো নেই। আমার থাকার ঘর, নিজের চলাচলের জন্য একটি গাড়ি(হুইল চেয়ার) আর বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসার টাকার প্রয়োজন৷ কিছুই নেই আমার। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা খগেন চন্দ্র বলেন, উপেন দাদার থাকার জায়গা নেই। আমরা সবাই মিলে লাঠি (ক্র্যাচ) কিনে দিয়েছে। সেটা নিয়েই সাহায্য তুলে নিজের খাবার ও ঔষুধ কেনেন। পায়ে ব্যান্ডেজ। বর্তমানে তার চিকিৎসা জরুরি হয়ে গেছে। এখন অনেক শীত। শীত নিবারণ ও চিকিৎসার জন্য সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওয়াহাব আলী জানান, আমরা উপেন চন্দ্রকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। বর্তমানে তার অবস্থা একেবারে নাজুক। আমি আমার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে উনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102