শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১০ অপরাহ্ন

চাষিদের সাথে প্রতারণা; আলু নিয়ে লংকাকান্ড বিএডিসি’র

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
  • হালনাগাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৫৬ বার

দেশে আলু চাষে দ্বিতীয় স্থানে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থান। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে রপ্তানি হয় ঠাকুরগাঁওয়ের উৎপাদিত আলু। আলু চাষের জন্য বীজ আলু বেশির ভাগ যোগান দেয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। কিন্তু এবার জেলার আলু চাষিদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে।

আলু বীজ ডিলারদের জন্য ৪২-৪৩ টাকা প্রতি কেজি নির্ধারণ করা হলেও চাষিদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬-৪৭ টাকা। ডিলাররা আবার ৪২-৪৩ টাকার আলু ৫৩-৫৫ টাকা দরে বিক্রি শুরু করেছেন। একজন বীজ ডিলারের জন্য ৫-১৫ মেট্রিকটন বীজ আলু বরাদ্দ দেওয়া হলেও একজন তালিকা ভুক্ত চাষির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২শ ৪০ কেজি। ২শ চল্লিশ কেজি আলু পাওয়ার জন্য মানতে হচ্ছে অনেক নিয়ম কানুন। বাবার বরাদ্দের আলু দেওয়া হয়নি ছেলেকে আবার ৫-৮ জন ডিলারের বরাদ্দের আলু একজনের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

গত অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের মাধ্যমে চাষিদের কাছে বীজ আলুর জন্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন আহব্বান করেন বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চল ( দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়)। নিদৃষ্ট তারিখের মধ্যে তিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক চাষি বীজ আলুর জন্য আবেদন করেন। গত ৮ নভেম্বর বিকেলে বীজ প্রাপ্ত চাষিদের তালিকা প্রকাশ করেন বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মজহারুল ইসলাম।

ঐদিন তিনি প্রতি আবেদনর জন্য দুই জাতের মিলে দুইশত চল্লিশ কেজি আলু বরাদ্দ দেন। প্রতি কেজি আলু এস্টারিক্স ও গ্রানোলা ডিলার পর্যায়ে বড় আলু ৪২ ও ছোট আলু ৪৩ টাকা এবং চাষি পযার্য়ে বড় আলু ৪৬ ও ছোট আলু ৪৭ টাকা নির্ধারণ করে বিপণন বিভাগ। আর ৮ নভেম্বর রাতে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগে ইমেইল দেয় চাষিদের ৯ নভেম্বরের মধ্যে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দিনাজপুর অফিসে জমা দেওয়ারি কথা বলা হয়। চাষিদের জন্য মাত্র ১ দিন সময় দেওয়া হলেও বীজ ডিলারদের জন্য সময় দেওয়া হয় ৫ দিন। কৃষি বিভাগের খবর পাওয়ার পরে অধিকাংশ তালিকা ভুক্ত চাষি টাকা পে-অর্ডার করতে পারেননি। বীজ আলু না পেয়ে হতাশ ভুগছেন আলু চাষিরা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুরের আলু চাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মজহারুল ইসলামের সাধারণ চাষিদের নামে বরাদ্দ দিয়ে ১ দিন মাত্র সময় দিয়েছেন যেন আমরা আলুর জন্য টাকা জমা দিতে না পারি। আমাদের বরাদ্দ আলু তিনি বেশি দামে অন্য জনের কাছে বিক্রি করবেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আলু চাষি আব্দুল গণি বলেন, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বিএডিসিতে বীজ আলুর জন্য আবেদন করেছিলাম। চাহিদা দিয়েছিলাম ২ হাজার কেজি আলু বরাদ্দ দিয়েছে মাত্র ২শ চল্লিশ কেজি। বাড়ি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অফিস তাই ছেলে আলু নিতে পাঠিয়েছিলাম। বিএডিসির বিপণনের উপ-পরিচালক ছেলেকে আলু দেয়নি। তিনি বলেছেন একজনের আলু অন্য জনকে দেওয়া যাবেনা। অথচ একজন ডিলারকে দশ জন ডিলারের আলু দিচ্ছে। টাকা দিয়ে আলু নিব বাবার আলু কেন ছেলেকে দেওয়া যাবে না? ডিলারদের কাছে আলু কিনতে গেলে তারা বলে আলু নেই। তা হলে কি আমরা আলু চাষ করতে পারবো না?

বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগ দিনাজপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মজহারুল ইসলামের কাছে চাষিদের জন্য ১ দিন ও ডিলারদের জন্য ৫ দিন সময়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজের অনেক চাপ তাই বীজ বিক্রয় কমিটির সীদ্ধানত মতে চাষিদের ও বীজ ডিলারদের সময় দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা জমা দিতে পারেরনি তাদের জন্য করার কিছুই নেই।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, যারা প্ররিশ্রম করে আলু উৎপাদন করে তাদের জন্য মাত্র ১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে যা ঠিক হয়নি। অনেক চাষি আলু বীজের টাকা পেট-অর্ডার করতে পারেনি। বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগে কথা বলবো যাতে কৃষকদের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়।

কৃষি বিপণন বিভাগ আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি ভাবে খুজরা আলুর দর নির্ধারণ করেছেন ৩০ টাকা। সে হিসেবে আলু চাষিরা আশাবাদি ছিল বিএডিসির আলু ৩৫ টাকার মধ্যে পাবে। কিন্তু বিএডিসি চাষিদের জন্য ৪৬-৪৭ টাকা নিধারণ করেছে। এখন তাদের প্রতি কেজি বীজ আলু কিনতে হচ্ছে ৫৩-৫৫ টাকা। বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষিদের থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে ১শ ৮৫ টন আলু সংগ্রহ করেন ২২ও ২৩ টাকা দরে। সেই আলু এখন সরকারি ভাবে বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৭ টাকা আর চাষি নিছে ৫৩-৫৫ টাকা দরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬৬,২৮৮,৮৮৭
সুস্থ
৪৫,৮৬৫,৮৭৩
মৃত্যু
১,৫২৫,৫৯৪
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত- বাংলার আলো বিডি
themesba-lates1749691102