রবিবার , সেপ্টেম্বর ২৩ ২০১৮
Breaking News

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকার ডাক্তার তৈরী হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার তৈরী হচ্ছে দেখা দরকার- প্রধানমন্ত্রী

বাংলার আলো ডেস্ক: সারাদেশ ‘প্রাইভেট বহু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেখানে আদৌ কোনো পড়াশুনা হচ্ছে কিনা, কি পড়াশুনা হচ্ছে। সত্যিকারের ডাক্তার তৈরি হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে। সেটাও আমাদের দেখা দরকার’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন।

তিনি বলেন, ‘একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পারবে সেটা নজরদারিতে রাখতে। যাতে একটা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সেই ব্যবস্থা করে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করতে চাই।’

এসময় তিনি আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া। তাতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের জনগণকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিতে পারব’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেভাবে কাজ করতে হবে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্য মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যাতে আরও বেশি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠে সে জন্য হাসপাতালের ও চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই চিকিৎসা ব্যবস্থাটা যেন একটা শিল্প হিসেবে গড়ে উঠে। দেশের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে যেন ঠিকমত মানসম্পন্ন পড়াশোনা হয় সে জন্য মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তদারকি করবে’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যবর্তী এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেব। বাংলাদেশ তখন আর অবহেলা অবজ্ঞার দেশ থাকবে না। সবাই বাংলাদেশকে সম্মান করবে’।

বিএসএমএমইউ-এর ভিসি ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের পেছনে নিজস্ব ৩ দশমিক ৮২ একর জমিতে দেশের প্রথম এ সেন্টার বেইজড সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ হচ্ছে। অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে মোট ১১টি সেন্টার থাকবে। ২০২১ সালে ১৩তলা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে এক ছাদের নিচেই সবধরনের স্বাস্থ্য সেবা মিলবে।

সেগুলো হলো- কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার, স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সেন্টার, কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি, এক্সিডেন্টাল ইর্মাজেন্সি, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, অনকোলজি, রেসপিরেটরি মেডিসিন।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় বিএসএমএমইউ -এর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল প্রকল্পটির অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার ই.ডি.সি.এফ এর অর্থায়নে এ বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। যা দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে ৪০ বছরের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রথম ১৫ বছর ঋণের কোনো টাকা পরিশোধ না করে পরবর্তী ২৫ বছরে তা পরিশোধ করা হবে।

Check Also

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বাংলার আলো ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ন্যাম ত্র্যান দাই কুয়াংয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *